অস্টিও-আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় হিজামা থেরাপী:

অস্টিও-আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় হিজামা থেরাপী:
অস্টিও-আর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) একটি অস্থিসংযোগের ক্ষয়জনিত রোগ। বিশেষত অস্থিসংযোগস্থলের প্রান্তভাগে থাকে তরুণাস্থির (Cartilage) আবরণ। এ তরুণাস্থির অবক্ষয় ঘটলে দেখা দেয় অস্টিও-আর্থ্রাইটিস। জোড়াব্যথা জীবনে হয়নি এমন মানুষ আমাদের সমাজে খুবই কম। গিঁট বা অস্থিসংযোগের ক্ষয়জনিত পরিবর্তন সাধারণত ৩০ বছরের আগে দেখা যায় না। বয়স বাড়ার সাথে-সাথে নারী-পুরুষ সবারই এ রোগটি হয়ে থাকে।  তবে তুলনামূলকভাবে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এ রোগ বেশি হতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে অস্টিও-আর্থ্রাইটিজ রোগটি ধীরে-ধীরে প্রকাশ পায়। সাধারণত হাঁটু, গোড়ালি, কোমর, ঘাড়, মেরুদন্ড ও বড়-বড় জোড়ায় বেশি হয়।
প্রথমে অস্থিসংযোগস্থলে মাঝে মাঝে ব্যথা-বেদনা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে চাবানোর মতো মনে হয়। হাড়জোড়ায় নড়া-চড়া করলে ব্যথা বেড়ে যায় এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যায়। বিশেষত ক্যলসিয়ামের অভাব হলে, পায়ে আঘাত লাগলে, অস্বাভাবিকভাবে মোটা হয়ে গেলে, হাড়ের এলাইমেন্টের গোলমাল হলে এবং স্নায়বিক ও প্রবাহজনিত রোগের কারণে অস্টিও-আর্থ্রাইটিস হতে পারে।
 
লক্ষণসমূহ:
 
  • অস্থিসংযোগে ব্যথা, এ ব্যথা প্রথমে অল্প থেকে আরম্ভ হয় এবং ক্রমে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে
  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় জয়েন্ট যেমন- হাঁটু, কোমর ও স্পাইনের গিঁট আক্রান্ত হয়। চলাফেরা ও সিঁড়ি দিয়ে উঠতে নামতে বেশ কষ্ট হয়। বিশ্রাম নিলে ব্যথা কিছুটা কমে যায়।
  • হাঁটুর অস্থিসংযোগে দুর্বলতা বা জোর না পাওয়ার অনুর্ভতি হয়।
  • প্রতিদিনের কাজে যেমন-নামাজের রুকু ও সিজদা দেয়া, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, টয়লেটে বসা ইত্যাদিতে অস্থিসংযোগস্থলের ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
  • অনেক সময় ব্যথার সাথে প্রদাহ হতে পারে। এই প্রদাহ হলে আক্রান্ত স্থান কিছুটা ফুলে যায়।
  • আক্রান্ত হাড় জোড়ার মাঝখানে কটকট করে শব্দ বা ব্যথা হয়।
  • আক্রান্তস্থলে হাত দিলে বা সামান্য আঘাত করলে প্রচন্ড ব্যথা হয়।
  • কেউ কেউ আক্রান্ত স্থানে দড়ি, কাপড় বা ফিতা দিয়ে পেঁচিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যায়।
  • অস্টিও-আর্থ্রইটিস এর ফলে আক্রান্ত স্থানের মাংসপেশি শুকিয়ে যেতে থাকে। ফলে ঐ স্থান চিকন হয়ে যায়।
 
অস্টিও-আর্থ্রাইটিস এর সুচিকিৎসা ও হিজামা থেরাপী:
 
মনে রাখতে হবে, সঠিক পদ্ধতিতে অঙ্গসঞ্চালন যেমন- ওঠা, বসা, ঘুমানো, স্বাভাবিক কাজ করা ইত্যাদি একজন মানুষকে রোগ থেকে অবশ্যই দুরে রাখতে সাহায্য করে। শরীরের ওজন বেড়ে যাচ্ছে মনে হলে চর্বিজাতীয় খাবার, ঘি, মাখন ইত্যাদি কম খেতে হবে এবং শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে।
কাপিং বা হিজামা থেরাপীর মাধ্যমে শরীরের হাড়জোড়া সমূহের ক্ষয়রোধ হয়। বডি সিসটেম একটিভ হয় ফলে মাংসপেশি মজবুত হয় এবং বড়ি নিজে নিজে হাড়জোড়ের সমস্যাসমূহের সমাধান করে। হিজমা থেরাপী একটি মিরাকল টিটমিন্ট। হিজামা থেরাপী মাধ্যমে শরীর নিজে নিজেই নাইট্রিক অক্সাইড তৈরী করে। নাইট্রিক অক্সাইড অন্যান্য রোগের পাশাপশি ক্ষয়রোগের (অস্টিও-আর্থ্রাইটিস) প্রতিরোধ ও প্রতিশেধক হিসাবে কাজ করে।
অস্টিও-আর্থ্রাইটিস এর চিকিৎসার একাধিক সেশনের হিজামা থেরাপী প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষজ্ঞ হিজামা থেরাপিষ্ট এর মাধ্যমে শরীরের যথাযথ পয়েন্টে হিজামা থেরাপী ব্যবহারের মাধ্যমে অস্টিও-আর্থ্রাইটিস থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব।
 
আব্দুছ ছবুর চৌধুরী
ফাউন্ডার এবং সিইও
হিজামা এন্ড রুকিয়া ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

নিজে জানুন,শেয়ার করে অন্যকে জানিয়ে দিন!

Share this post with your friends!